শুক্রবার, ২৩ Jul ২০২১, ১০:৩১ অপরাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদঃ
কোরবানি নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য, আটক প্রধান শিক্ষক হংকং ক্রিকেটে দলের অধিনায়ক আইজাজ খান গ্রেফতার মাইন প্রতিরোধী গাড়ির প্রথম চালান ঢাকায় বিধিনিষেধ ভঙ্গ করে চলছে ফেরি, পায়ে হেঁটে ঢাকা আসছে মানুষ ১৮ বছর হলেই পাওয়া যাবে করোনার টিকা, সিদ্ধান্ত দ্রুতই টি-টোয়েন্টি সিরিজে সমতা ফেরালো জিম্বাবুয়ে বিধিনিষেধের প্রথম দিনে রাজধানীতে ৪০৩ জন গ্রেপ্তার বরগুনার দুই নারী কামারের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ আফগান বাহিনীকে সহযোগিতায় কয়েক দফা বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র : পেন্টাগন দ.আফ্রিকায় সহিংসতায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩৭ পর্দা উঠল টোকিও অলিম্পিকের সন্তানকে রক্ষা করে মারা গেলেন মা পদ্মার পিলারে ফেরির ধাক্কা, তদন্ত কমিটি গঠন বিধিনিষেধ অমান্য: মালয়েশিয়ায় ২৫ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার গত ২৪ ঘন্টায় করোনায় মৃত্যু ১৬৬, শনাক্ত ৬৩৬৪
শান্তিপূর্ণ সমাধানই আমাদের পলিসি তালেবান মুখপাত্র

শান্তিপূর্ণ সমাধানই আমাদের পলিসি তালেবান মুখপাত্র

টিআরটি ওয়ার্ল্ডের দক্ষ সঞ্চালক আলী আহসান আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেছেন তালেবান মুখপাত্র সোহাইল শাহীনের সাথে।
mmbnews24com এর পাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো ।

সঞ্চালকের প্রশ্ন:
এক. আফগানিস্তানে আবার রক্তের হোলি খেলা শুরু হয়েছে, তালেবান কেন এই রক্তপাত ঘটাচ্ছে, আফগানিস্তানের ভবিষ্যত কী?

উওর: গত পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহে ১৫০ জেলা তালেবানের হাতে এসেছে, কোন বাহিনির পক্ষে লড়াই করে এত দ্রুত এতবড় এরিয়া দখল করা সম্ভব? তালেবানের যুদ্ধশক্তি কি এত বেশি? আসলে তা না। আমরা সেসব এলাকা দখল করছি যেখানকার সরকারি বাহিনি স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করছে। যারা আফগানিস্তানের প্রকৃত সন্তান তারি আমাদের দলে যোগ দিয়েছে।
(উল্লেখ্য এসময় নিজেদের ক্ষেত্রে ফ্রিডম ফাইটার শব্দটি ব্যাবহার করেন।)

যদি আমরা তাদের দলে যেতাম, তারা কি আমাদেরকে গ্রহণ করত না? তদ্রূপ আমরাও তাদেরকে গ্রহণ করছি।

তারা কেন কাবুল প্রশাসনের পক্ষ ত্যাগ করে আমাদের দলে যোগ দিচ্ছে? কারণ তারা জানে কাবুল প্রশাসন মূলত দখলদারদের উচ্ছিষ্টভোগি, তারা পরাধিনতার অংশ। সেনারা মনে করে তালেবানরা প্রকৃত স্বাধীনতা সংগ্রামী, এই মাটির সম্মান ও স্বাধীনতা তালেবনের হাতে নিরাপদ। তাই তারা তালেবানে যোগ দিচ্ছে।

দুই. আমেরিকা বলছে কূটনৈতিকদের নিরাপত্তা দিতে এক হাজার সৈন্য থাকবে, তালেবান এটা কিভাবে দেখছে?

উওর: দেখুন মূল চুক্তিতে ছিল সেনারা মে মাসের ভিতর আফগানিস্তান ছেড়ে যাবে, পরে সেটা ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়, এখনো পর্যন্ত আমরা তাদের উপর হামলা চালাই নি, এর মানে হচ্ছে আমাদের দিক থেকে চুক্তির কোনরূপ লঙ্ঘন হয় নি।

চুক্তিতে ছিল সব বিদেশি সেনা আফগান ছেড়ে যাবে। যদি একজন সেনাও আফগানিস্তানের মাটিতে থাকে, তার মানে হচ্ছে অপরপক্ষ চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। সেক্ষেত্রে আমরা যথাযথ পদক্ষেপ নিব।

সঞ্চালক- এটি কি সরাসরি হুমকি?
মুখপাত্র- হ্যাঁ

তিন. তুরস্ক চাচ্ছে কূটনৈতিক মিশনের দায়িত্ব নিতে, এক্ষেত্রে তালেবানের অবস্থান কী?

উওর: তুরস্কের সাথে আমাদের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে ভালো, মুসলিম এবং বীরদের জন্মভূমি হিশেবে উভয় দেশ আত্মার বন্ধনে আবদ্ধ। কিন্তু আফগানিস্তান এখন একটা যুগ অতিক্রম করছে- পরাধীনতা আর দখলদারিত্বের যুগ। এই যুগ শেষ হয়ে নতুন যুগের সূচনা হবে- স্বাধীনতা আর সার্বভৌমত্বের যুগ। দুই যুগের মাঝে কোন সম্পর্ক থাকবে না। এই যুগের কেউ সেই যুগে প্রবেশ করতে পারবে না।

তুরস্ক যদিও বেসামরিক কাজে ছিল, কিন্তু তারা ন্যাটোর অংশ হিশেবে আফগানিস্তানের দখলদারিত্বে অংশগ্রহন করেছে। আমেরিকা বা ন্যাটোর কোন সদস্য দেশের সেনা থাকা মানে সেই দখলদারিত্ব আর পরাধীনতা বজায় থাকা। এর কোন সুযোগ নেই। এই দেশ স্বাধীন হবে। শতভাগ স্বাধীন।

তবে যখন এদেশ স্বাধীন হবে, ইসলামিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে, তখন পৃথিবীর যেকোন রাষ্ট্র আমাদের সাথে যেকোন চুক্তি করতে চাইলে- দে আর ওয়েলকাম। তুরস্ক চাইলেও তখন আমাদের সাথে চুক্তি করতে পারে। কিন্তু বর্তমান দখলদারিত্বের অংশ হিশেবে আফগানিস্তানে থাকার কোন সুযোগ নেই।

চার. আফগানিস্তানে এনজিওকর্মিদের ভবিষ্যত কী?
পাঁচ- নারী অধিকারের কী হবে? ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত সময়ের বিভীষিকা কি আবার ফিরে আসবে? নারী শিক্ষা, বিশেষত নারী অধিকারের কী হবে?

উত্তর: তালেবান এনজিওকর্মী, সংবাদকর্মী, সমাজকর্মী, এনজিওর স্থানীয় প্রতিনিধি, কূটনৈতিক, দূতাবাস ও কনস্যুলেটে কখনো হামলা চালায় না, চালাবও না। আমরা যে ১৫০ জেলার দায়িত্ব নিয়েছি আমাদের নেতৃবৃন্দ ইতোমধ্যেই আদেশ জারি করেছেন সেখানকার স্কুল, কলেজ, দোকানপাট, মিডিয়াসহ সবকিছু যেন স্বাভাবিক এবং ‘অপারেশনাল’ থাকে সেই ব্যবস্থা করতে।

আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি, মাঠপর্যায়ে সবকিছু স্বাভাবিকভাবেই চলছে। সুতরাং এনজিওদের কোন শঙ্কা নেই। এবং এই কারণেও দূতদের সহায়তার কথা বলে আমেরিকান বা ন্যাটোভুক্ত কোন দেশের সেনা রাখার দরকার নেই, আমরাই তাদের নিরাপত্তা দিব।

দেখুন ইসলামে যেসব অধিকার দেওয়া আছে, সেগুলো দিতে আমাদের কোন সমস্যা নেই। মেয়েরা স্কুলে যাবে, শিক্ষার্জন করবে, চাকরি করতে পারবে, কিন্তু অবশ্যই তাদেরকে হিজাব পরতে হবে। ইসলামি দেশে ইসলামি আইনের সাথে কম্প্রোমাইজ হবে না। পৃথিবীর বহু মুসলিম এবং অমুসলিম দেশে মেয়েদের আলাদা গার্লস স্কুল রয়েছে, আফগানিস্তানেও থাকবে। তারা সেখানে পড়বে।
সঞ্চালক- তার মানে বিগত বিশ বছরে তালেবানের আদর্শে অনেক পরিবর্তন এসেছে? ১৯৯৬-২০০১ সালের মত ঘটনার পূনরাবৃত্তি হবে না?

মুখপাত্র- এগুলো প্রোপাগাণ্ডা। আমাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত বৃহৎ প্রোগ্রামের অংশ।

দেখুন বিগত বিশ বছরে আমি এই প্রথম কোন মিডিয়ায় কথা বলছি, অথচ এই সময়ে আপনি কত শত সহস্রবার আমাদের প্রতিপক্ষের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন? মাঠ ফাকা ছিল, তাদের ইচ্ছেমত মিথ্যা ছড়িয়েছে। দুঃখজনক হলেও সত্য মিডিয়ায় আমাদের উপস্থিতি ছিলই না। তারা যেসব ছড়ায় সেগুলো মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি নয়।

মোল্লা সুহাইল শাহীন বলেন, সরকারের সাথে আমাদের আলোচনা চলছে তা সত্য। কিন্তু মিডিয়া যে বরাতে যে নিউজ ছড়াচ্ছে সেটা মিথ্যা। যার বরাতে ছড়ানো হচ্ছে আমি তার সাথে ফোনে কথা বলে এসেছি, এগুলো মিথ্যা নিউজ, প্রোপাগাণ্ডা।

অনুবাদ: গাজী নুরুল ইসলাম, এমএমবি নিউজ।

শেয়ার করুন

Leave a Reply




মালিকানা স্বত্ব © এমএমবি নিউজ ২৪- ২০২১
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।